ঢাকা জেলার দর্শনীয় স্থান

0
29
lalbag-fort
লালবাগ কেল্লা

বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকা নানা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু। মেগা শহর ঢাকা গোড়াপত্তন হয় মোঘল আমল থেকে। ইতিহাসের ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে এই শহরের গোড়াপত্তন করেন ইসলাম খান। কালের বিবর্তনে বিভিন্ন শসনামলে এই ঢাকায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্থাপনা তথা বিনোদন কেন্দ্র। ঢাকার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানহলো-

লালবাগ কেল্লা

বাংলাদেশে মুঘল আমলের এক স্মৃতিচিহ্ন হল রাজধানী শহর ঢাকার অদূরে অবস্থিত লালবাগ কেল্লা। ঢাকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত একটি অসমাপ্ত দুর্গ। জানা যায়, সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র সুবেদার মুহাম্মদ আজম শাহ ১৬৭৮ সালে দুর্গ টি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কিন্তু তিনি এর নির্মা ণকাজ শেষ না করে দিল্লি চলে যান। পরবর্তীতে তার উত্তরসুরি, মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করেন, কিন্তু তিনিও শেষ করেননি। কারণ মুঘল শায়েস্তা খাঁর কন্যা পরী বিবি মারা যান। সেই থেকে শায়েস্তা খা এই দুর্গকে অপয়া মনে করতেন এবং নির্মাণ কাজ থামিয়ে দেন।

যদিও আওরঙ্গজেব দুর্গটি মুঘলদের পরিপূর্ন ছোয়ায় পুণাঙ্গ রূপলাভ করতে পারেনি, তবুও এটি ইতিহাসের পাতায় মুঘলদের বীরগাথা ও তাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। সময়ের পরিক্রমায় লালবাগ দুর্গটি এখনও তার ইতিহাস-ঐতিহ্যকে অটুট রেখেছে। এজন্য দেশি-বিদেশি পর্যটক, জ্ঞানপিপাসু মানুষ মুঘলদের সেই অব্যক্ত কথা শুনতে ছুটে আসে ঢাকায়। নিজের চোখ দিয়ে মুঘলদের সেই স্থাপত্যসুধা পান করতে চায় এবং হারিয়ে যায় সেই সতের শতকের মুঘল রাজ্যে।

lalbag-fort
লালবাগ কেল্লা

জাতীয় স্মৃতিসৌধ

স্বাধীন বাংলাদেশের স্মৃতিবিজড়িত এক স্মৃতিস্তম্ভ হল ঢাকায় অদূরে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতি সৌধ। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়কে স্মরণীয় করা রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাগুলো তুলো ধরার নিমিত্তে এই স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করা হয়। জাতীয় স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত মুক্তিযোদ্ধা ও নিহত বেসামরিক বাঙালি ও অবাঙ্গালিদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত একটি স্মারক স্থাপনা। জাতিয় স্মৃতিসৌধের নকশা প্রণয়ন করেন সৈয়দ মাঈনুল হোসেন। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে নবীনগরে এই স্মৃতিসৌধের শিলান্যাস করেন।

এই স্মৃতিসৌধ সকল দেশ প্রেমিক নাগরিক এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় ও সাফল্যের যুগলবন্দি রচনা করেছে। সাতটি ত্রিভুজাকৃতি মিনারের শিখর দেশের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের সাতটি পর্যায়ের প্রতিটি এক ভাবব্যঞ্জনাতে প্রবাহিত হচ্ছে। এই সাতটি পর্যায়ের প্রতিটি সূচিত হয় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। পরবর্তীতে চুয়ান্ন, ছাপান্ন, বাষট্টি, ছেষট্টি ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। মিনারটি ৪৫ মিটার (১৫০.০০ ফুট)উঁচু এবং জাতীয় শহীদ স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিন্দুতে অবস্থিত। মিনার ঘিরে আছে কৃত্রিম হ্রদ এবং বাগান। স্মৃতিসৌধ চত্বরে আছে মাতৃভূমির জন্য আত্মোৎসর্গকারী অজ্ঞাতনামা শহীদের দশটি গণসমাধি। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আরও রয়েছে উন্মুক্ত মঞ্চ, অভ্যর্থনা কক্ষ, মসজিদ, হেলিপ্যাড, ক্যাফেটেরিয়া।

স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের সর্বমোট আয়তন ৮৪ একর। স্মৃতিস্তম্ভ পরিবেষ্টন করে রয়েছে ২৪ একর এলাকাব্যাপী বৃক্ষরাজিশোভিত একটি সবুজ বলয়। স্মৃতিসৌধটির উচ্চতা ১৫০ ফুট। সৌধটি সাত জোড়া ত্রিভুজাকৃতির দেয়াল নিয়ে গঠিত। দেয়ালগুলো ছোট থেকে ক্রমশ বড়ক্রমে সাজানো হয়েছে। এই সাত জোড়া দেয়াল বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাতটি ধারাবাহিক পর্যায়কে নির্দেশ করে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ১৯৬২ শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণ-অভ্যূত্থান, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ – এই সাতটি ঘটনাকে স্বাধীনতা আন্দোলনের পরিক্রমা হিসাবে বিবেচনা করে সৌধটি নির্মিত হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা শহরের সাভার এলাকায় অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের একটি প্রযুক্তিবিদ্যা ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে পরিচিত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩০,০০০ ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসটি বিশাল এবং মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পর্যায়ের বাগান, জাহাঙ্গীরনগর লেক, সংগঠনের গলিয়ে ঘেরা অঞ্চল, পার্ক এবং সুন্দর ভবন সম্পন্ন হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের অধ্যয়নের সময় এবং বিনোদনের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয়, যেমন লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব, আন্তর্জাতিক কন্ফারেন্স হল, রেস্তোরাঁ এবং বিনোদনের কেন্দ্র।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিভিন্ন বিভাগসমূহ অবস্থিত যা বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম চালানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। যেমন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, কম্পিউটার সাইস্টেম এন্জিনিয়ারিং বিভাগ, ইলেকট্রিকাল এন্জিনিয়ারিং বিভাগ, ব্যবসায় অনুষদ, সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ, বিজ্ঞান বিভাগ ইত্যাদি।

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা হলো বাংলাদেশের প্রধান চিড়িয়াখানা যা পশ্চিমবঙ্গের রাজশাহী জেলায় অবস্থিত। এটি বিভিন্ন প্রজাতির পক্ষী সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই চিড়িয়াখানায় প্রায় ১০০ প্রজাতির পক্ষী পালন করা হয়।

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন প্রজাতির পক্ষীর সংরক্ষণ, প্রতিষ্ঠান ও অধ্যয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাতে প্রজাতির উদ্ভাবন এবং বৃদ্ধি হয়। এছাড়াও এই চিড়িয়াখানায় পর্যটকদের জন্য শিকারী পক্ষীর নির্মূলন এবং বিভিন্ন প্রজাতির পক্ষীর সম্পর্কে জ্ঞান আর্জনের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা হয়।

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার সংক্ষিপ্ত ঠিকানা: ঠিকানা: শেল্টের মডেল টাউন, রাজশাহী, বাংলাদেশ সময়কাল: সকাল ৮:০০ টা থেকে বিকাল ৫:০০ টা

বোটানিক্যাল গার্ডেন

বোটানিক্যাল গার্ডেন হলো একটি জাদুঘরপূর্ণ উদ্যান যেখানে বিভিন্ন প্রকারের গাছ, উদ্ভিদ এবং বিভিন্ন নদীবদ্ধ ফুলের উপাদান দেখা যায়। এই গার্ডেনগুলি সাধারণত শিক্ষানবিশ ও গবেষণার্থে প্রতিষ্ঠিত হয়। এদের মূল উদ্দেশ্য হলো উদ্ভিদতত্ত্ব, উদ্ভিদবিজ্ঞান, ও পরিবেশ বিজ্ঞানের অনুশীলন ও গবেষণার জন্য সংগ্রহ ও শিক্ষার্থীদের উপকারের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা।

ঢাকা শহরের বোটানিক্যাল গার্ডেন, যা সঠিক নাম হল “ধানমন্ডি বোটানিক্যাল গার্ডেন”, একটি পরিচিত উদাহরণ। এটি ঢাকা শহরের ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থিত এবং প্রায় ৮০ একর আয়তনে ছড়িয়ে পড়ে। এই বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রায় ৫,০০০ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, উদ্ভিদ এবং ফুল রয়েছে। এটি বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ, ফুলের বাগান, জলাভিত উদ্ভিদ গার্ডেন, স্থাপত্য বাগান, কমলাপুর লেক এবং সময় অনুসারে অন্যান্য অঞ্চলগুলি থাকে। এই গার্ডেনটি বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও সৌন্দর্য দেখানোর জন্য আদর্শ একটি স্থান। এছাড়াও এখানে সকাল থেকে সন্ধ্যায় পর্যটকদের জন্য মনোরম বিনোদন সুযোগ রয়েছে।

হাতির ঝিল

হাতির ঝিল ঢাকা শহরের মিরপুর এলাকায় অবস্থিত একটি পার্ক ও ঝিল। এটি গুলশান-মিরপুর রোডের পাশে অবস্থিত। হাতির ঝিলে পানির সৌন্দর্য ও সার্কুলার বাস্তবতার সমন্বয়ে এটি জনপ্রিয় একটি পর্যটন স্পট। হাতির ঝিলে আছে একটি ছোট জাহাজ, যাত্রীগণের জন্য নৌকা ভ্রমণ সুযোগ এবং একটি সুন্দর ফুটপাথ যা জলের পার দিয়ে যাওয়ার সুযোগ সরবরাহ করে। পার্কে ঘুরাঘুরি করতে পারেন, বসবাস বন্ধুদের সঙ্গে আপনার সময় কাটাতে পারেন এবং পরিবেশের সুন্দরতা এবং প্রাকৃতিক শান্তি উপভোগ করতে পারেন। হাতির ঝিল একটি সুন্দর পর্যটন স্পট হিসাবে পরিচিত এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়।

ধানমন্ডি লেক

ধানমন্ডি লেক ঢাকা শহরের ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক লেক। এটি একটি মনোরম জলাশয় যা শহরের নানাবিধ সৌন্দর্য ও বিনোদনের একটি পার্ক হিসাবে পরিচিত। ধানমন্ডি লেকের আকর্ষণীয়তা হল তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জলপ্রপাত, নৌকা ভ্রমণ সুযোগ, তরঙ্গ উড়ানো ও লেক পার্কে চাষিত ফুল ও গাছপালা ইত্যাদি। ধানমন্ডি লেকে মানুষরা ঘুরে বেড়াতে এবং পিকনিক করতে আসেন। যাত্রীদের জন্য নৌকা ভ্রমণ ও জলপায়ে ঘুরতে সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও লেকের পার্কে সুন্দর ফুলের বাগান এবং জনপথে গাছ-গাছপালা অন্যতম আকর্ষণীয় দৃশ্য। ধানমন্ডি লেক শহরের আরামদায়ক ও রম্য পর্যটন স্পট।

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর বাংলাদেশের জাতীয় সামরিক জাদুঘর বা সামরিক মিউজিয়াম হলো ঢাকা শহরের একটি অদ্ভুত পর্যটন স্থল। এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, সামরিক সাহিত্য, জয় পত্র, সামরিক উপকরণ ও অন্যান্য সামরিক মুদ্রণশিল্প সংক্রান্ত সংগ্রহস্থল।

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর তৈরি হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিতে নাগরিকদের সম্পর্ক প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য। এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংস্মরণ ও প্রশংসা করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এটিতে মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রহস্থল, সামরিক যন্ত্রপাতি, সামরিক ভূগোল ও নকশা, সামরিক পত্রিকা ও নথিপত্র, সামরিক প্রযুক্তি ইত্যাদি প্রদর্শিত হয়।

বাংলাদেশ টাকা জাদুঘর

বাংলাদেশে টাকা জাদুঘর বা টাকা মিউজিয়াম বর্তমানে কোনো প্রতিষ্ঠান বা স্থাপন নেই। টাকা জাদুঘর হলো একটি কলেকশন স্থান যেখানে টাকার বিভিন্ন প্রকার স্মৃতিচিহ্ন, মুদ্রাবস্ত্র, নোট, আর্কিটেকচার ইত্যাদি প্রদর্শনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। সাধারণত এই ধরণের জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয় যাত্রার আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য পর্যটন স্থল হিসাবে।

এখনও বাংলাদেশে এই ধরণের একটি পূর্ববতী স্থাপন নেই, তবে কিছু প্রাকৃতিক স্মৃতিচিহ্ন ও নোটের কালেকশন প্রদর্শনের জন্য কিছু অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী সময়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। অত্র সম্পর্কিত তথ্য পেতে বাংলাদেশের পর্যটন বোর্ড ও সংবাদ মাধ্যম অনুসন্ধান করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বা মুক্তিযুদ্ধ মিউজিয়াম হলো একটি স্থান যেখানে মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রহস্থল, স্মৃতিচিহ্ন, সামরিক যন্ত্রপাতি, প্রতিষ্ঠানিক পত্রিকা, মুদ্রাবস্ত্র, জয়পত্র, অঙ্গীকারপত্র, নকশা, ছবি, ডকুমেন্টারি ও অন্যান্য মুক্তিযুদ্ধের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের বিভিন্ন অংশগুলি প্রদর্শন করা হয়। এটি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংগ্রহস্থল, বীরমুক্তিযোদ্ধাদের প্রশংসার স্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সাহিত্য ও সামরিক পরম্পরার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের মধ্যে ঢাকা শহরের বিজয়নগর বিভাগে অবস্থিত “মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও মিউজিয়াম” বিখ্যাত। এছাড়াও চট্টগ্রাম শহরে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও মিউজিয়াম অবস্থিত যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

এই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরগুলি দর্শকদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, প্রশংসাপত্র, সামরিক যন্ত্রপাতি, প্রতিষ্ঠানিক পত্রিকা, জয়পত্র, সংগ্রহস্থল ও ছবির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সংঘটন, প্রতিষ্ঠান ও মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনকাহিনী উপস্থাপন করে। এছাড়াও অনুষ্ঠান, উদ্যোগ ও সম্প্রদায়িক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় যার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের জন্মভূমি বা ঐতিহ্যিক ঘটনার স্মৃতিগুলি বজায় রাখা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা শহরের শাহবাগ এলাকায় অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ও দেশের সর্বাধিক প্রশস্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে পরিচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাসটি প্রায় 600 একর জমির উপর অবস্থিত।

ক্যাম্পাসে বিভিন্ন শিক্ষাগার, বিভিন্ন শিক্ষাগারের জন্য নির্ধারিত ভবনসমূহ, গবেষণাগার, লাইব্রেরি, অধ্যাপক বাসা, ছাত্রাবাস ও অন্যান্য সেবা সরবরাহকৃত সুযোগগুলি রয়েছে। ক্যাম্পাসের ভবনগুলির মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় হলে শাহীদুল্লাহ হল, জাগরণী হল, শহীদস্মৃতি ভবন, কবি নজরুল ইসলাম হল ইত্যাদি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসটি শিক্ষা, গবেষণা ও সামাজিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসাবে সম্প্রতি দ্রুত বিকাশ পাচ্ছে। এটি বিভিন্ন শিক্ষাগত, সাংস্কৃতিক ও মনোরম সংঘটনের স্থান হিসাবে পরিচিত।

রমনা পার্ক

রমনা পার্ক ঢাকা শহরের মতিঝিল এলাকায় অবস্থিত একটি বিশাল সার্বজনীন উদ্যান। এটি ঢাকা শহরের প্রধান উদ্যান হিসাবে পরিচিত এবং অনেকটা হৃদয় ও গভীর বিনোদনের কেন্দ্র। রমনা পার্ক বিভিন্ন প্রাকৃতিক অবকাঠামো, ফুল, উদ্যান ও উপাহার শপ সহ সব ধরনের বিনোদন সুযোগ সরবরাহ করে।

রমনা পার্কে আপনি বসবাস বন্ধুদের সঙ্গে আপনার সময় কাটাতে পারেন, সাইকেল চালাতে পারেন, বলিং করতে পারেন, ক্রিকেট খেলতে পারেন, নৌকা ভ্রমণ করতে পারেন এবং পার্কে ঘুরাঘুরি করতে পারেন। এছাড়াও রমনা পার্কে রমনা সংবাদপত্রিকার জন্য আদান-প্রদান প্লেস, শিশুদের জন্য খেলনাগৃহ, ফুটবল মাঠ, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে সরবরাহ করা হয়। রমনা পার্ক সার্বজনীন পরিবেশের সাথে বিনোদন এবং মনোরম সময় কাটাতের জন্য খুবই জ

শহিদ মতিউর রহমান পার্ক

শহিদ মতিউর রহমান পার্ক ঢাকা শহরে অবস্থিত একটি পার্ক। এটি মতিউর রহমান নামক একজন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যোদ্ধা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের শহীদ হয়েছিলেন তাঁর স্মৃতিকে সমর্পণ করা হয়েছে।

শহিদ মতিউর রহমান পার্কটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত হয়েছে। এটি একটি প্রাকৃতিক পার্ক যেখানে বৃক্ষগুলি, ফুলের বাগান, জলপ্রপাত এবং শান্তিপূর্ণ ভাঁজ প্রদান করে। পার্কে একটি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে যেটি মতিউর রহমানের জীবন ও সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে। এটি সময়ের মধ্যে একটি পর্যটন স্থল হিসাবে পরিচিত হয়েছে যেখানে মানুষের মধ্যে শান্তি ও আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। এছাড়াও এখানে বিভিন্ন ক্রীড়াঙ্গন ও বাচ্চাদের জন্য খেলনাগুলি উপলব্ধ রয়েছে।

শহিদ মতিউর রহমান পার্ক প্রতিদিন অনেক পর্যটকদের সংগ্রহ করে। পার্কে বিভিন্ন কর্মসূচি ও সামাজিক কর্মসূচির কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। যাত্রীরা এখানে ঘুরে আনন্দ করতে পারেন এবং পার্কের পরিবেশ থেকে সমুদ্রপথের একটি সুন্দর দৃশ্যও দেখতে পারেন।

চন্দ্রিমা উদ্যান

চন্দ্রিমা উদ্যান ঢাকা শহরের গুলশান এলাকায় অবস্থিত একটি পার্ক। এটি একটি সুন্দর এলাকায় অবস্থিত এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয়। চন্দ্রিমা উদ্যানটিতে ঘুরে আসলে আপনি একটি পরিমাণ পরিষ্কার এবং পরিচ্ছন্ন পার্কের সাথে ভারতীয় শিল্প ও সাংস্কৃতিক পরম্পরা পাবেন। পার্কে ঘুরাঘুরি করতে পারেন, রাস্তায় বেড়ানোর জন্য সাইকেল নিয়ে যেতে পারেন এবং সুন্দর সবুজ পরিবেশে বসে বসে আরাম করতে পারেন। চন্দ্রিমা উদ্যানে আপনি পাবেন আপনার পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে মনোরম সময় কাটাতের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ।

ঢাকেশ্বরী মন্দির

ঢাকেশ্বরী মন্দির ঢাকা শহরের প্রাচীন এলাকায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মন্দির। এটি বাংলাদেশের বৌদ্ধ স্থাপত্যের একটি গবেষণা কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত। ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রাচীন বৌদ্ধ স্মৃতিগুলি এবং মূর্তিপূজা কার্যক্রম সংঘটিত হয়। এটি সুন্দরভাবে সাজানো একটি মন্দির যেখানে মন্দিরের পশ্চিম দিকে বৌদ্ধ বিহার ও পুজার মূর্তিগুলি রয়েছে। মন্দিরটি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক মূল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্থল। আপনি ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ঘুরে আসলে আপনি বৌদ্ধ স্থাপত্য ও শিল্পের সুন্দর শিল্পশিল্পি উদাহরণ দেখতে পাবেন। এছাড়াও এখানে মনোরম পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক শান্তির স্থান পাওয়া যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here