ঈদগাঁও উপজেলার দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ

0
115
রাবার ড্যাম

ঈদগাঁও উপজেলাটি বাংলাদেশের ৪৯৩ তম উপজেলা। কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত ঈদগাঁও উপজেলাটির আয়তন ১১৯.৬৬ বর্গকিলোমিটার বা ৪৬.২০ বর্গমাইল। এই উপজেলার উত্তরে চকরিয়া উপজেলা, দক্ষিণে কক্সবাজার সদর উপজেলা, পূর্বে রামু উপজেলা এবং পশ্চিমে মহেশখালী উপজেলা অবস্থিত।

২২ জুলাই ২০১৯ তে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রেরণ করে ঈদগাঁওকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে, ২৬ জুলাই ২০২১ তে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ঈদগাঁওকে স্বতন্ত্র উপজেলা হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়। আগে এটি কক্সবাজার সদর উপজেলার আওতাধীন ছিল। ঈদগাঁও থানা ও ইউনিয়নের সাথে মিল রেখে উপজেলার নামকরণ করা হয়েছে। ঈদগাঁও বা ঈদগাহ মানে হলো ঈদের জামায়াত আদায় করার জন্য একটি স্থান বা মাঠ।

নয়াবাদ” নামে ঈদগাঁও প্রাচীন যুগে পরিচিত ছিল। জানা যায় যে, উত্তরাধিকারের ভ্রাত্বঘাতীযুদ্ধে পরাজিত হয়ে মোগল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহসুজা সৈন্য নিয়ে ভারতবর্ষ থেকে আরাকান পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁরা তৎকালীন নয়াবাদ এলাকায় পৌঁছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময় নিকটে হওয়ায় সেখানে সৈন্যবাহিনী, আমিরসহ ঈদের নামাজ আদায় করেন। তারপর থেকে ঈদগাঁও নামে পরিচিতি লাভ করে এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ আমলে বিভিন্ন সরকারি নথিপত্রে ঈদগাঁও নামে লিপিবদ্ধ ও পরিচিত হয়।

এই উপজেলায় যোগাযোগের প্রধান সড়ক হল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। এখানে বাস, সিএনজিচালিত গাড়ী, অটোরিকশাসহ প্রায় সব ধরনের যানবাহনে যাতায়াত করা যায়।

১. খান বীচ

কক্সবাজার জেলার অন্যতম পর্যটন নগরী খান বীচ যেটি ইসলামপুর, ঈদগাঁও, কক্সবাজারে অবস্থিত। দুই পাশে পানি আর মাঝ দিয়ে রাস্তা একটা অসাধারন সুন্দর পরিবেশের অবতারণা করেছে। সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশের কারনে অনেক মানুষ এখনে গুরতে আসেন প্রতিদিন।

২. মেহেরঘোনা বনাঞ্চল

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান সড়ক হতে প্রায় ১কিলোমিটার পূর্বদিকে মেহেরঘোনা বনাঞ্চল অবস্থিত। পায়ে হেটে এবং যে কোন যানবাহন যোগে যাতায়তের সুবিধা রযেছে। এখনে প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্য পশুপাখির পাশাপাশি বিভিন্ন গাছপালার মাঝে ভ্রমণ পিপাশু মানুষ প্রশান্তি খুঁজে পাবেন। 

৩. রাবার ড্যাম

রাবারের বাঁধ হল কক্সবাজারের আরেকটি দর্শনীয় স্থান। শীতকালে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এসময়ে জমি চাষের জন্য পানির চাহিদা পুরন করা হয় ভু গর্ভে জমে থাকা পানি এবং বর্ষাকালে জমানো বৃষ্টির পানি থেকে। এ কারণে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ভু গর্ভে জমে থাকা পানি বিভিন্ন নদীর চ্যানেল, লেক ও রিজার্ভারে সংরক্ষণের জন্য স্বল্প খরচে একটি প্রযুক্তি চালু করেছে। এই উদ্দেশ্যে কক্সবাজার জেলার বাকখালি নদী এবং ঈদগাঁও খালে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি রাবারের বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে যার মাধ্যমে ধান চাষের জন্য প্রায় ৮০০০ হেক্টর জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করা হবে। এখনে ব্রিজের উপর দাড়িয়ে পানির প্রবাহ ছুটে চলা দেখতে হাজারও মানুষ ছুটে আসেন। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here